সাইবার হামলা ও অনলাইন প্রতারণা রোধে দুই প্ল্যাটফর্ম

Share
Share

সাইবার হামলা, অনলাইন প্রতারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকি এড়ানো এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়ন ও উন্নয়নে দুটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি উদ্ভাবিত দুটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—‘সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম’ এবং ‘ন্যাশনাল আইসিটি অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

মঙ্গলবার (৩৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্ম দুটির উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

একই অনুষ্ঠানে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি ২০২৬-২০৩০-এর প্রাথমিক খসড়া উপস্থাপন এবং অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম (সিআইআরএস) এবং ন্যাশনাল আইসিটি অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেমের (এনসিআরএস) উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। একই সঙ্গে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি ২০২৬-২০৩০-এর প্রাথমিক খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আগামী দিনের সাইবার নিরাপত্তা কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা দেবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে। সিআইআরএস’র মাধ্যমে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান সহজে সাইবার ঘটনার রিপোর্ট করতে পারবে এবং দ্রুত প্রতিকার পাবে।

অন্যদিকে এনসিআরএস সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়ন ও উন্নয়নে সহায়তা করবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, অপপ্রচার ও অনলাইন হয়রানি রোধে সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ, স্থিতিশীল ও আস্থাশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এই উদ্যোগগুলো দেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন পাসের পর বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আজকের উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই; ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্যাশলেস সমাজের দিকে এগিয়ে যেতে হলে সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা শুধু সরকারের নয়, নাগরিক, বেসরকারি খাত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার রোধে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

ব্যাংকিং, আর্থিক খাত এবং সরকারি তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে সাইবার ঝুঁকি আরও বাড়বে, তাই এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই হবে বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রধান ভিত্তি।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সিআইআরএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা সাইবার-সংক্রান্ত ঘটনা দ্রুত ও কাঠামোবদ্ধভাবে রিপোর্ট করতে পারবেন। প্রতিটি রিপোর্ট যাচাই, বিশ্লেষণ, এসকেলেশন, প্রতিক্রিয়া, মনিটরিং ও নিষ্পত্তির সমন্বিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে।

অন্যদিকে, এনসিআরএস দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আইটি, তথ্য নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য একটি জাতীয় রেটিং ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। ন্যাশনাল আইসিটি অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি ম্যাচ্যুরিটি রেটিং ফেমওয়ার্ক-এর ভিত্তিতে চারটি মূল স্তম্ভ এবং ১৩১টি নির্ণায়কের আলোকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘এ’ থেকে ’ই’ গ্রেডে মূল্যায়ন করা হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, বিভিন্ন অংশীজন এবং আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share

আপনার ছবি আশির দশকের আবহে ফেরাতে যে প্রম্পট ব্যবহার করবেন

একসময় ক্যামেরার ফিল্মে তোলা ছবিতে আটকে থাকত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ছবিতে থাকত দানাদার আবহ, কিছুটা ম্লান রং আর আলো-ছায়ার স্বাভাবিক অসম্পূর্ণতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার...

৬০ শতাংশ বাংলাদেশি শিশু স্ক্রিনের সামনে নিষ্ক্রিয়ভাবে সময় কাটায়, হচ্ছে না মানসিক বিকাশ

বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বেড়েছে। এখন শিশুরা শেখার মাধ্যম হোক আর বিনোদনের অংশ হোক, নানাভাবে ডিজিটাল ডিভাইসের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব ডিভাইস ভাষা শেখার...

শিশুদের কৌতূহল থেকে মহাকাশের স্বপ্ন—ঢাকায় শেষ হলো স্পেস এক্সপ্লোরেশন অলিম্পিয়াড

মহাকাশকে জানার আগ্রহ আর ভবিষ্যতে মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশু-কিশোরদের মিলনমেলায় পরিণত হয় ঢাকার এআইইউবি ক্যাম্পাস। গ্রহ-নক্ষত্র থেকে...

৬০ শতাংশ বাংলাদেশি শিশু স্ক্রিনের সামনে নিষ্ক্রিয়ভাবে সময় কাটায়, হচ্ছে না মানসিক বিকাশ

বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বেড়েছে। এখন শিশুরা শেখার মাধ্যম হোক আর বিনোদনের অংশ হোক, নানাভাবে ডিজিটাল ডিভাইসের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব ডিভাইস ভাষা শেখার...