বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতিগত উদ্যোগে দেশের ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আধুনিক হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো)। সংগঠনটি এ উদ্যোগকে দেশের ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বাক্কোর মতে, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে মতবিনিময়, নীতিগত আলোচনা এবং সুপারিশ দিয়ে আসছিল সংগঠনটি। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই প্রচেষ্টার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে।
নতুন নির্দেশনায় যেসব সুবিধা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রচলিত কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। এখন থেকে প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডকুমেন্ট বৈদেশিক আয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।
এছাড়া নতুন নির্দেশনায় আরও যেসব সুবিধা যুক্ত হয়েছে—
- ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে।
- অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার গ্রহণের সুযোগ থাকবে।
- ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে।
- আইটি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটায় (ERQ) সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এ সীমা ৩০ শতাংশ।
এসব পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও দ্রুত, সহজ এবং কার্যকর হবে বলে মনে করছে বাক্কো।
বাক্কোর প্রতিক্রিয়া
বাক্কোর কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত দেশের ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। বৈদেশিক লেনদেন সহজ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করা ফ্রিল্যান্সার ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আরও নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের ডিজিটাল সেবা রপ্তানিও সম্প্রসারিত হবে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম বলেন, নতুন এই উদ্যোগ বর্তমান ও আগ্রহী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় ধরনের উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে। বৈদেশিক লেনদেনের জটিলতা কমে গেলে নতুন প্রজন্ম আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে আগ্রহী হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
ডিজিটাল অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
বাক্কোর মতে, ফ্রিল্যান্সিং ও বিপিও (BPO) শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী খাত। এ খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তা, সহজ আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংগঠনটি মনে করে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা রপ্তানিতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে।
এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে বাক্কো ভবিষ্যতেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং শিল্পের বিকাশে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

