বাংলা কিউআরে লেনদেনে চার্জ শূন্য, মিলবে প্রণোদনা

Share
Share

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও জনপ্রিয় করতে বাংলা কিউআরভিত্তিক সব ধরনের লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট চার্জ (আইআরএফ) বা আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি শূন্য করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুধু চার্জ তুলে নেওয়াই নয়, ছোট ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনে প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে একদিকে সাধারণ মানুষের ছোট অঙ্কের কেনাকাটায় ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়বে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কিউআর পেমেন্টে আগ্রহী হবেন বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে জারি করা পৃথক দুটি সার্কুলারে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। নতুন দুটি সিদ্ধান্তই আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

নতুন সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে এলো, যখন বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পরও এর মাধ্যমে লেনদেন এখনও দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল পেমেন্ট বাজারের তুলনায় খুবই সীমিত। নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে গত ১ জুলাই থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই লেনদেনের ব্যয় বেশি হওয়ায় ব্যবহার বাড়ছিল ধীরগতিতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলা কিউআরভিত্তিক সব লেনদেনে আইআরএফ চার্জ বা আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি শূন্য করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ দাবি করতে পারবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় লেনদেনের খরচ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে ছোট অঙ্কের লেনদেনে ফি-সংক্রান্ত জটিলতা কমবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর মূল লক্ষ্য হলো দেশে ডিজিটাল লেনদেন আরও বাড়ানো।

২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রণোদনা : বাংলা কিউআর ব্যবহারে আরও গতি আনতে একই দিনে আরেকটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় আনতে তাদের মার্চেন্ট পয়েন্টে করা ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআরভিত্তিক এনপিএসবি লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে লেনদেনের পরিমাণের ০ দশমিক ১০ শতাংশ প্রণোদনা পাবে একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠান। আর ০ দশমিক ২০ শতাংশ প্রণোদনা পাবে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান।

অর্থাৎ, একটি ছোট দোকানে কোনো ক্রেতা বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্ট করলে সেই লেনদেনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ইস্যুয়িং ও একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য, এর মাধ্যমে ছোট দোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও প্রান্তিক সেবা প্রদানকারীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। কারণ, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ছোট ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ এখনও নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল। তাদের কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থায় আনতে প্রণোদনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কৃত্রিম লেনদেন করলে প্রণোদনা নয় : তবে প্রণোদনা পাওয়ার জন্য কেউ যেন লেনদেনে কৃত্রিমতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো একক লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে ভাগ করা যাবে না। এ ধরনের ‘ট্রানজেকশন স্ট্রাকচারিং’ বা অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করাও নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ফেইল্ড, রিভার্সড, রিফান্ডেড, চার্জব্যাক, ডিসপিউটেড কিংবা পরবর্তী সময়ে বাতিল হওয়া কোনো লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা দেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনে যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের রেকর্ড, মার্চেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য, নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য সহায়ক কাগজপত্র যাচাই ও নিরীক্ষা করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী এসব তথ্য ও দলিল সরবরাহ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।

ভুল প্রণোদনা দিলে টাকা ফেরত : কোনো প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত, কৃত্রিম বা ত্রুটিপূর্ণ লেনদেনের বিপরীতে ভুলবশত প্রণোদনা দেওয়া হলে সেই অর্থ ফেরত নিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে দেওয়া প্রণোদনার অর্থের সঙ্গে ওই টাকা সমন্বয় করা যাবে। মার্চেন্ট পর্যায়ে অস্বাভাবিক লেনদেন দেখা গেলেও সংশ্লিষ্ট একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন হলে তা পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিমভাবে লেনদেন ভাগ করা, ক্যাশ আউট কিংবা অন্য কোনো উপায়ে প্রণোদনা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায় নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া প্রণোদনার অর্থ ফেরত নিতে বা পরবর্তী প্রণোদনার সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন-২০২৪ অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

Share

আপনার ছবি আশির দশকের আবহে ফেরাতে যে প্রম্পট ব্যবহার করবেন

একসময় ক্যামেরার ফিল্মে তোলা ছবিতে আটকে থাকত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ছবিতে থাকত দানাদার আবহ, কিছুটা ম্লান রং আর আলো-ছায়ার স্বাভাবিক অসম্পূর্ণতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার...

৬০ শতাংশ বাংলাদেশি শিশু স্ক্রিনের সামনে নিষ্ক্রিয়ভাবে সময় কাটায়, হচ্ছে না মানসিক বিকাশ

বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বেড়েছে। এখন শিশুরা শেখার মাধ্যম হোক আর বিনোদনের অংশ হোক, নানাভাবে ডিজিটাল ডিভাইসের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব ডিভাইস ভাষা শেখার...

শিশুদের কৌতূহল থেকে মহাকাশের স্বপ্ন—ঢাকায় শেষ হলো স্পেস এক্সপ্লোরেশন অলিম্পিয়াড

মহাকাশকে জানার আগ্রহ আর ভবিষ্যতে মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশু-কিশোরদের মিলনমেলায় পরিণত হয় ঢাকার এআইইউবি ক্যাম্পাস। গ্রহ-নক্ষত্র থেকে...

আপনার ছবি আশির দশকের আবহে ফেরাতে যে প্রম্পট ব্যবহার করবেন

একসময় ক্যামেরার ফিল্মে তোলা ছবিতে আটকে থাকত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ছবিতে থাকত দানাদার আবহ, কিছুটা ম্লান রং আর আলো-ছায়ার স্বাভাবিক অসম্পূর্ণতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার...