গুগলের এআই মডেলে প্রতি মিনিটে ২২ বিলিয়ন টোকেন প্রসেস, রেকর্ড আয়ের ঘোষণা
এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সুফল মিলতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান আলফাবেট। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক (Q2) আর্থিক ফলাফলে কোম্পানিটি রেকর্ড রাজস্ব, শক্তিশালী মুনাফা এবং ক্লাউড ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২২ জুলাই প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে আলফাবেট জানায়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১১৯.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাজার বিশ্লেষকদের ১১৬.৯ বিলিয়ন ডলারের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে কোম্পানির অপারেটিং আয় হয়েছে ৪০.৮ বিলিয়ন ডলার, যা প্রত্যাশার তুলনায়ও বেশি।
আলফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই বলেন, “এআই-এ আমাদের বিনিয়োগ ব্যবসার প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।”
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- মোট রাজস্ব বেড়েছে ২৪ শতাংশ (বছরওয়ারি)
- সার্চ ও অন্যান্য বিজ্ঞাপন আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ
- গুগল ক্লাউডের রাজস্ব বেড়েছে ৮২ শতাংশ
- ক্লাউড ব্যবসার ব্যাকলগ পৌঁছেছে ৫১৪ বিলিয়ন ডলারে
- ইউটিউব বিজ্ঞাপন আয় বেড়েছে ১৩ শতাংশ
- জেমিনি অ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৯৫০ মিলিয়ন
- ফরচুন ১০০ তালিকার ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এখন জেমিনি এন্টারপ্রাইজ ব্যবহার করছে
- গুগলের ফার্স্ট-পার্টি মডেল এপিআই এখন প্রতি মিনিটে প্রায় ২২ বিলিয়ন টোকেন প্রসেস করছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ১৬ বিলিয়নের কিছু বেশি।
এআই অবকাঠামোতে রেকর্ড বিনিয়োগ
আর্থিক প্রতিবেদনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো কোম্পানির মূলধনী ব্যয় (Capex)। দ্বিতীয় প্রান্তিকে আলফাবেটের ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার হয়েছে ৪৪.৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
এছাড়া পুরো ২০২৬ সালের জন্য ক্যাপেক্সের পূর্বাভাস বাড়িয়ে ১৭৫ থেকে ১৮৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগের বড় অংশই ব্যয় হবে এআই ডেটা সেন্টার, সার্ভার ও কম্পিউট অবকাঠামো সম্প্রসারণে।
বাড়ছে কম্পিউট সক্ষমতার চাহিদা
এআই ব্যবহারের দ্রুত বিস্তারের কারণে গুগলের কম্পিউটিং সক্ষমতার ওপর চাপও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিজস্ব অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত কম্পিউট রিসোর্স ব্যবহারের দিকেও নজর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিজস্ব প্রজন্মের এআই চিপ উন্নয়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গুগল ক্লাউডের ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং বিশাল অর্ডার ব্যাকলগ প্রমাণ করছে যে, বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুতগতিতে এআইভিত্তিক সেবা গ্রহণ করছে। এর ফলে ক্লাউড অবকাঠামোর চাহিদাও বাড়ছে।
সুযোগের পাশাপাশি রয়েছে ঝুঁকিও
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ভবিষ্যতের বাজার দখলে সহায়ক হতে পারে। তবে এত বড় বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় না এলে বা এআই সেবার চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় কমে গেলে কোম্পানির ওপর আর্থিক চাপও তৈরি হতে পারে।
তাই এখন বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের নজর শুধু রাজস্ব বৃদ্ধির দিকে নয়, বরং এই বিপুল এআই বিনিয়োগ থেকে দীর্ঘমেয়াদে কতটা আর্থিক রিটার্ন আসে, সেটির দিকেও।

