বর্তমান প্রযুক্তির যুগে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই এখন বিনোদন জগতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়ে এলো এক যুগান্তকারী ও নতুন উদ্যোগ। মূলত প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে টিকটক তাদের কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে বিশেষ উদ্যোগ
টিকটকের নতুন এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—কোন ভিডিওটি আসল আর কোনটি এআই দ্বারা তৈরি, তা ব্যবহারকারীদের কাছে পরিষ্কার করা। এখন থেকে প্ল্যাটফর্মটিতে কোনো এআই জেনারেটেড কনটেন্ট আপলোড করা হলে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাতে একটি বিশেষ ‘লেবেল’ বা ট্যাগ যুক্ত হয়ে যাবে। ফলে সাধারণ দর্শকরা সহজেই বুঝতে পারবেন যে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
টিকটক জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের এআই সম্পর্কে সচেতন করতে একটি এআই লিটারেসি গাইড চালু করা হয়েছে। এই গাইড তৈরিতে সহযোগিতা করেছে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর মিডিয়া লিটারেসি এডুকেশন (এনএএমএলই) এবং এআই বিশেষজ্ঞ হেনরি অ্যাডজার। এতে ভিডিও ও সহজ ব্যাখ্যার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে কীভাবে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করা যায় এবং দায়িত্বশীলভাবে এআই টুল ব্যবহার করা সম্ভব।
শুধু গাইডেই থেমে থাকছে না টিকটক। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অ্যাপের ভেতরে একটি লার্নিং হাব চালু করা হবে। ব্যবহারকারীরা এআই সম্পর্কিত কোনো বিষয় খুঁজলে এই হাব থেকে বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে এআই কনটেন্ট শনাক্ত করার কৌশল শিখতে পারবেন। এআই সচেতনতা বাড়াতে অর্থায়নও বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এ লক্ষ্যে নোফিলটার এবং রাস্পবেরি পাই ফাউন্ডেশনের মতো উদ্যোগে সহায়তা দেবে টিকটক, যাতে আরও বেশি মানুষ এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য জ্ঞান লাভ করতে পারেন।
একই সঙ্গে এআই দিয়ে তৈরি স্প্যাম ও ভুয়া তথ্য ঠেকাতে শনাক্তকরণ প্রযুক্তিও উন্নত করছে টিকটক। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ৮ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আগামী দিনে রাজনীতি, সাম্প্রতিক ঘটনা, আর্থিক পরামর্শ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এআই নির্ভর স্প্যাম ছড়ানো অ্যাকাউন্ট দ্রুত শনাক্ত করতে আরও উন্নত প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে টিকটকের এই নতুন উদ্যোগ ডিজিটাল দুনিয়ায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

